চাকরির  সাক্ষাতকারে  সফল হওয়ার প্রস্তুতি

সাক্ষাতকার কেন?

একটি ভালো প্রস্তুতি তখনি সম্ভব যখন আপনি জানবেন কেন প্রস্তুতি নিচ্ছেন , কিসের জন্য নিচ্ছেন এবং যার সামনে নিজেকে উপস্থাপন করচ্ছেন তার উদ্দেশ কি? কেন তিনি আপনার সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন।এই বিষয়গুলো যদি আপনার জানা থাকে তাহলে সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি নেয়াও যেমন সহজ হয় ঠিক তেমনি নিজেকে সাবলীল ও দক্ষভাবে উপস্থাপন করাও সহজ হয়।তাহলে আসুন জেনে নেই নিয়োগকর্তা কেন সাক্ষাতকার নেন।চাকরি প্রার্থীর সাথে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে.....

চাকরির সাক্ষাতকারে সফল হওয়ার তিনটি পূর্বশর্ত

১. ভয়কে জয় করুন ২. অনুশীলন অনুশীলন আর অনুশীলন ৩. দিবা স্বপ্ন নয়

সাক্ষাৎকারের আগের দিন করণীয়

১।  প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে যত বেশি সম্ভব তথ্য সংগ্রহ করুন , মনে রাখবেন এই সকল তথ্য আপনার সাক্ষাৎকারটিকে সফলতার দিকে নিয়ে যাবে, তাই জানুন,প্রতিষ্ঠানের খুঁটি নাটি সম্পর্কে, তাদের প্রতিযোগী কারা, বাজারে তাদের অবস্থান কেমন , তাদের কর্ম পরিবেশ ইত্যাদি। আপনার সংগৃহীত মূল্যবান তথ্য সাক্ষাৎকারের দিন আপনাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে এবং নিয়োগ কর্তারা বুঝবেন আপনি এই পদের জন্য কাজ করতে ইচ্ছুক ফলে নিয়োগকর্তার আপনার প্রতি একটি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হবে।

সাক্ষাৎকারের আগের দিন করণীয়

২।  আপনার নিজের সম্পর্কে কি বলবেন তা আগে থেকে ঠিক করে নিন , খেয়াল রাখবেন তা যাতে ২ থেকে ৩ মিনিটেই বলা যায়, যাতে আপনাকে যখন জিজ্ঞাসা করা হবে আপনার সম্পর্কে বলুন তা যেন আপনি সহজ ও সাবলীল ভাষায় বলে দিতে পারেন, তবে লক্ষ্য রাখবেন কোনো ভাবেই যাতে তা মুখস্থ না শুনায়।

সাক্ষাৎকারের আগের দিন করণীয়

৩।  সম্ভাব্য কিছু প্রশ্নের উত্তর যা প্রায়শই সাক্ষাৎকারে এসে থাকে তাদের উত্তর আগে থেকে তৈরি করে নিন। সাক্ষাৎকারে আসা এই রকম কিছু পরিচিত প্রশ্ন হলো

-আপনার সম্পর্কে কিছু বলুন? -আপনি পূর্বের চাকরিটি কেন ছেড়েছেন / কেন ছাড়তে চাচ্ছেন? -এই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আপনি কি জানেন ? -আপনার সামর্থ্য ও দুর্বলতাগুলো কি কি ? -আপনি এই প্রতিষ্ঠানের জন্য কেন কাজ করতে চান ? -এ যাবত কালে আপনার সব থেকে বড় অর্জন কি? -আমরা কেন আপনাকেই নির্বাচন করবো ? -আপনি কত টাকা বেতন প্রত্যাশা করছেন?

সাক্ষাৎকারে যাবার পূর্বে

সাক্ষাতকারে যাবার আগে নিজেকে আয়নার সামনে আরো একবার দেখে নিন, দেখুন আপনার পোশাক ঠিক আছে কিনা,তাতে পেশাধারি মনোভাব ফুটে উঠেছে কিনা দেখে নিন আর আত্মবিশ্বাসের সাথে নিজেকে বলুন আমি পারব এবং দেখুন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়েছেন কিনা, যে সকল বিষয়গুলো অবশ্যই সংগে রাখতে হবে তা হল

-আপনার জীবন বৃত্তান্তের তিন থেকে চারটি প্রিন্টেট কপি -দুটি কলম, পেন্সিল আর সাক্ষাৎকারের অনুষ্ঠিত হবার ঠিকানা -নোট টুকে রাখার জন্য আলাদা কাগজ

পৌঁছানোর পর যা যা করবেন

1. ১০ মিনিট আগে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন, ট্রাফিক জ্যাম এড়ানোর জন্য এক ঘণ্টা হাতে রেখে রওনা দিন 2. প্রতিটি প্রার্থীকে নিয়োগকর্তার কাছে তার যোগ্যতা ,দক্ষতার আর ব্যক্তিত্বের পরীক্ষা দিতে হয়, তাই সম্ভাব্য প্রশ্নগুলো আরো একবার যাচাই করে নিন যাতে নিজেকে সাবলীল, আত্মবিশ্বাসী ও গুছিয়ে নিয়োগকর্তাদের সামনে উপস্থাপন করতে পারেন 3. বিশ্রামাগারে যেয়ে আপনাকে শেষ বারের মতো আরও একবার দেখে নিন 4. নিয়োগকর্তাকে হাস্য-জ্বল অভিবাদন জানান, তাদের সাথে আত্মবিশ্বাসের সাথে হ্যান্ডশেক করুন এবং অনুমতি নিয়ে বসে পড়ুন 5. আপনার চেহারার মাঝে আত্মবিশ্বাসের ছাপ বজায় রাখুন, নিয়োগকর্তাদের চোখের দিকে তাকিয়ে হাস্য-জ্বল অভিব্যক্তিতে কথা বলুন।

সাক্ষাৎকারের সময় যা করবেন

1. আপনি যে সকল বিষয় গুলোর উপর প্রস্তুতি নিয়ে এসেছেন সেই সকল বিষয়গুলোর প্রতি গুরুত্ব দিন , তবে খেয়াল রাখবেন আপনার কথায় কোনো ভাবেই যেন প্রকাশ না পায় আপনি আগে উত্তরগুলো মুখস্থ করে এসেছেন, চেষ্টা করবেন অত্যন্ত সাবলীল ভাবে আত্মবিশ্বাস সাথে কথা বলতে

সাক্ষাৎকারের সময় যা করবেন

1. শান্ত থাকুন আর কথোপকথনটি উপভোগ করুন, প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জেনে নিন যতটুকু জেনে নেয়া সম্ভব 2. বিশ্রামাগারে যেয়ে আপনাকে শেষ বারের মতো আরও একবার দেখে নিন 3. প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন , নিয়োগকর্তা আপনাকে কি বোঝাতে চাইছে তা বোঝার চেষ্টা করুন , অনেক সময় তা সরাসরি না হয়ে নিয়োগকর্তারা একটু ঘুরিয়ে বলে থাকেন, সেই বিষয়গুলো বোঝার চেষ্টা করুন। 4. সাক্ষাৎকার পর্ব শেষ হলে সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানান এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কি হবে তা জেনে নিয়ে প্রস্থান করুন

নিজের দূর্বলতাগুলোকে খুঁজে বের করুন

আপনার দুর্বল দিকগুলো বের করুন।ভাবুন সাক্ষাৎকারের কোন কোন বিষয় আপনাকে ঘাবড়ে দেয়। কোন কোন বিষয়ের উপর আপনি কাজ করতে চান। যদি সাক্ষাৎকারের পরিবেশ আপনাকে ঘাবড়ে দেয় , কিংবা আপনি প্রশ্নের উত্তর বলার সময় উত্তরগুলোকে অগোছালো করে ফেলেন, তাহলে এই বিষয়গুলো উপর আপনি কাজ করতে পারেন। এই রকম ভাবে বের করুন কি কি বিষয়ের উপর আপনি কাজ করতে চান। এর জন্য আপনার দুর্বল দিকগুলোর একটি লিস্ট তৈরি করতে পারেন এবং সেই সকল দূর্বলতা কিভাবে কাটিয়ে উঠতে পারেন সে বিষয়ে চেষ্টা করুন ।