চাকরির ইন্টারভিউ : যে বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ

একটি সফল সাক্ষাতকারের তিনটি পূর্বশর্ত

অনেক সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন , কিন্তু কোনো ফলাফল পাচ্ছেন না। কোনো একটা কারণে কেন যেন আপনার স্বপ্নের চাকরিটি বার বার হাত ছাড়া হয়ে যাচ্ছে। সব কিছুতেই ভালো করছেন কিন্তু সাক্ষাৎকারে যেয়েই সব গুলিয়ে ফেলছেন। ঠিক বুঝতে পারছেন না কি কারণে এমনটা হচ্ছে। এর মূল কারণটি হচ্ছে আপনি চাকরির সাক্ষাৎকারের জন্য অবশ্যই পালনীয় পূর্ব শর্ত গুলো মেনে চলছেন না।যার ফলে শত চেষ্টা থাকা সত্ত্বেও আপনার সেরাটা দিয়ে আসতে পারছেন না। তাই জেনে নিন চাকরির সাক্ষাৎকারের জন্য অবশ্যই পালনীয় তিনটি পূর্ব শর্ত।


ভয়কে জয় করুন

ভয়কে জয় করুন। আপনার মনের ভেতরের অহেতুক ভয়টিকে যদি জয় করতে না পারেন তাহলে সে কখনোই আপনাকে জয়ী হতে দেবে না। শত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও দেখবেন আপনি হেরে যাচ্ছেন। কারণ ভয় আপনাকে হারিয়ে দিচ্ছে। আপনাকে আটকে ধরে রাখছে অহেতুক দুশ্চিন্তার বেড়াজালে। তাই ভয় নয়,ভয়কে জয় করুন। নিজের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করুন। নিজেকে বলুন আপনি পারবেন।খারাপ হলে আপনি চাকরিটা পাবেন না,এর বেশি কিছু নয়। অহেতুক ভয়কে দূর করার জন্য নিজেকে তিনটি কথা বলুন:

১. আপনি কোন বাঘের খাঁচায় পড়তে যাচ্ছেন না।

২. পৃথিবীর সবাই সবকিছু জানে না , এমন অনেক কিছুই আছে যা আপনি জানবেন কিন্তু চাকরিদাতা জানবেন না।

৩. আপনার হারানোর কিছু নেই, হয় আপনি জিতবেন না হয় আপনি শিখবেন।

এছাড়াও সাক্ষাতকারের দিন ভয় কাটানোর জন্য ১০ মিনিট পূর্বে সাক্ষাতকারের স্থানে উপস্থিত হন, গলা শুকিয়ে আসলে পিওনের কাছ থেকে পানি খেয়ে নিতে পারেন সাক্ষাৎকার কক্ষে প্রবেশ করার পূর্বেই, কোনোভাবেই নিয়োগকর্তাদের কাছে পানি খেতে যাবেন না, স্নায়বিক দুর্বলতা কাটানোর জন্য বার বার দীর্ঘ নিশ্বাস নিন, এতে আপনি ভয় কাটিয়ে অনেক স্বাভাবিক ও সাবলীল হয়ে সাক্ষাৎকারে প্রবেশ করতে পারবেন। মনে রাখবেন, ভয় পেয়েছেন তো হেরেছেন, তাই ভয়কে জয় করুন সাফল্য আপনারই।


অনুশীলন অনুশীলন আর অনুশীলন

অনুশীলন,অনুশীলন আর অনুশীলন, একটি ভালো সাক্ষাৎকারের জন্য অনুশীলনের গুরুত্ব অনস্বীকার্য, তাই অনুশীলন করুন, সাক্ষাৎকারে যাবার পূর্বে যতটুকু অনুশীলন করা সম্ভব, নিজেকে যত ভালো করে তৈরি করবেন সাক্ষাৎকারে ততই সফলতার দিকে এগিয়ে যাবেন। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে অনুশীলন করুন কিভাবে আপনি কথা বলবেন, আপনার অভিব্যক্তি গুলো ভালো করে লক্ষ্য করুন, দেখুন আপনি নিজেকে সন্তুষ্ট করতে পারচ্ছেন কিনা, আপনার চোখে যদি কোনো ভুল ধরা পরে তা ঠিক করার চেষ্টা করুন।তারপর আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আবারও ছায়া সাক্ষাৎকার দিন, এই অনুশীলনটি আপনার ভেতরকার জড়তাগুলোকে ভেঙ্গে দিবে ফলে মূল সাক্ষাৎকারের সময় আপনি আরো সাবলীল ভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারবেন।আপনার অনুশীলনটিকে আরো একটু মাত্রা দিতে আপনার বন্ধুদের সাহায্য নিতে পারেন,তাদের সাহায্যে একটি ছায়া সাক্ষাৎকারের ব্যবস্থা করুন, জিজ্ঞাসা করুন আপনার অভিব্যক্তি,চোখের দৃষ্টির মাঝে কোনো স্নায়বিক দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে কিনা, কেননা আপনার কথা দিয়ে আপনি আত্মবিশ্বাসের ছাপ ফুটিয়ে তুলতে পারলেও তা যদি আপনার অভিব্যক্তিতে প্রকাশ না পায় তাহলে তা নিয়োগকর্তাদের মাঝে বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠবে না। প্রস্তুতিতে আরো একটু মাত্রা যোগ করতে আপনার অভিব্যক্তি গুলোকে ভিডিও করতে পারেন, আপনি নিজেও দেখে নিন কোথায় কোথায় ভুল হচ্ছে, অন্যদের জিজ্ঞাসা করুন, তাদের মতামত নিন এবং সেই অনুযায়ী নিজেকে তৈরি করুন।মনে রাখবেন একটি ভালো প্রস্তুতিই একটি ভালো সাক্ষাৎকারের পথ সুগম করে দেয়।


দিবা স্বপ্ন নয়

কখনোই ভাবতে যাবেন না একটি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমেই আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত চাকরিটি পেয়ে যাবেন, ভাবতে হবে এটা সূচনা মাত্র, সাক্ষাৎকার যেমনি হোক না কেন ভাবুন আপনি দুই ভাবেই সফল হবেন, হয় চাকরিটি পাবেন না হয় নতুন কিছু শিখবেন যা কাজে লাগিয়ে আপনি পরবর্তী সাক্ষাৎকারে ভালো করবেন।

Leave a Reply