প্রশ্ন উত্তরCategory: Questionsসংবিধান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
Web desk Staff asked 6 months ago

💢 সংবিধান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য 💢

🔘️ সংবিধান প্রধানত ৪ প্রকার-লিখিত,অলিখিত, সুপরিবর্তনীয় ও দুষ্পরিবর্তনীয়

🔘 ️লিখিত সংবিধান নেই কয়েকটি দেশের। উল্লেখযোগ্য দেশ- যুক্তরাজ্য , নিউজিল্যান্ড, স্পেন, সৌদিআরব।

🔘 পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সংবিধান ভারতের এবং ছোট সংবিধান যুক্তরাষ্ট্রের। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হয় যুক্তরাজ্য ও ভারতের সংবিধানের আলোকে।

⭕ বাংলাদেশের সংবিধান ⭕

🔘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন।
=>১৯৭২ সালের ৪ ঠা নভেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান জাতীয় সংসদে গৃহীত হয় একই বছরের ১৬ ডিসেম্বরে তা কার্যকর হয়।=>মূল সংবিধান ইংরেজিতে রচিত এবং একে বাংলায় অনুবাদ করা হয়।তাই এটি বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষাতে বিদ্যমান।তবে ভাষার অর্থগত বিরোধ দৃশ্যমান হলে বাংলারুপ অনুসরণীয় হবে।এই ব্যাপারে ১৫৩(৩নং) অনুচ্ছেদে আলোচনা করা হয়েছে।

🔘খসড়া সংবিধান উত্থাপনঃ ১২ অক্টোবর, ১৯৭২ ( দ্বিতীয় অধিবেশন)
🔘অনুমোদনঃ ৪ঠা নভেম্বর, ১৯৭২
🔘লেখকঃ ৩৪ সদস্য বিশিষ্ট সংবিধান প্রনয়ণ কমিটি।
🔘স্বাক্ষরকারীঃ গণপরিষদ সদস্যগণ
🔘তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারি করেন ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি। তিনি গণপরিষদ আদেশ জারি করেন ২৩ মার্চ,১৯৭২।
🔘 রাষ্ট্রপতি কতৃক গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন আহবান ১০ এপ্রিল, ১৯৭২

সংবিধান রচনা কমিটিঃ-

🔘 কমিটি গঠনঃ ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ ( গণপরিষদের ১ম অধিবেশনের ২য় দিনে)
🔘 কমিটির সদস্য ৩৪ জন। কমিটির সভাপতি তৎকালীন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন। কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য বেগম রাজিয়া বানু।একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত।
🔘কমিটির প্রথম বৈঠক – ১৭ এপ্রিল, ১৯৭২।
🔘মোট বৈঠক করে-২৯ টি (১৭ এপ্রিল থেকে ৩ রা অক্টোবর পর্যন্ত)
🔘 ১৭ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে সংবিধানের জন্য জনগণের মতামত আহ্বান করা হয় এবং তা থেকে ৯৮ টি সুপারিশ গ্রহণ করা হয়।
🔘 খসড়া সংবিধান গণপরিষদে উত্থাপন করেন ড. কামাল হোসেন ১২ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে।গণপরিষদে উত্থাপিত হওয়ার পর ১২ অক্টোবর থেকে ৪ ঠা নভেম্বর পর্যন্ত সংবিধানের উপর সাধারণ আলোচনা হয়।
🔘গণপরিষদ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ আলোচনায় তার বক্তৃতায় বলেন-” এই সংবিধান শহীদের রক্তে লিখিত।এই সংবিধান সমগ্র জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার মূর্ত প্রতীক হয়ে বেঁচে থাকবে।
🔘৪ ঠা নভেম্বর সংবিধান গণপরিষদে গৃহীত হয়। এইজন্যই ৪ ঠা নভেম্বর সংবিধান দিবস।
🔘 ১৯৭২ সালের ১৪ ডিসেম্বর হস্তলিখিত সংবিধানে গণপরিষদের সদস্যরা স্বাক্ষর করেন। প্রথম স্বাক্ষর করেন বঙ্গবন্ধু। ২য় সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
🔘 ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে সংবিধান বলবৎ হয়।
=>গণপরিষদের সদস্য ছিল -৪০৩ জন
=> পুস্তলিখিত সংবিধানে স্বাক্ষর করে -৩০৯ জন
=> গণপরিষদ আদেশ জারি করা হয়- ২৩ মার্চ, ১৯৭২।প্রধান উদ্দেশ্য -সংবিধান প্রনয়ণ।
=> প্রথম অধিবেশনের সভাপতি- মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ
=> স্পীকার- শাহ আবদুল হামিদ, ডেপুটি স্পীকার – মোহাম্মদ উল্লাহ।

🔘মূল সংবিধান ইংরেজিতে লেখার পর এর বাংলা ভাষারূপ পর্যোলোচনা করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট ভাষা বিশেষজ্ঞ কমিটি।ড. আনিসুজ্জামান ছিলেন কমিটির আহবায়ক। অন্য ২ সদস্য হলেন- সৈয়দ আলী আহসান ও ড. মাযহারুল ইসলাম।

🔘সংবিধান অলংকরণের জন্য পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছিল, যার প্রধান ছিলেন- শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন। এই কমিটির অন্য সদস্যগণ ছিলেন- শিল্পী হাসেম খান, জনাবুল ইসলাম, সমরজিৎ রায় চৌধুরী ও আবুল বারক আলভী। শিল্পী হাসেম খান অলংকরণ করেছিলেন আর কারুকার্য -শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন।

🔘 হস্তলিাখিত সংবিধানের মূল লেখক শিল্পী আবদুর রউফ।হস্তলিখিত সংবিধান ৯৩ পাতার।এটি এখন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।

🔘 গণপরিষদ ভবন বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন, সেখানে সংবিধান প্রনয়ণ কমিটির বৈঠকে সহযোগিতা করেন ব্রিটিশ আইনসভার খসড়া আইন প্রণেতা- আই গাথারি।

🔘 সংবিধান ছাপাতে ব্যয় হয়েছিল- ১৪ হাজার টাকা। ১৯৪৮ সালে তৈরী ক্র্যাবাট ব্রান্ডের দুটি অফসেট মেশিনে সংবিধানটি ছাপা হয়।

🔘 এই পর্যন্ত সংবিধান ১৭ বার সংশোধন করা হয়েছে।সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদের দুই তৃতীয়াংশ সদস্যর সম্মতির দরকার হয়। এ বিধান উল্লেখ আছে ১৪২ নং অনুচ্ছেদে এবং ৭(খ) অনুচ্ছেদে।

🔘 সংবিধানে ৭ টি তফসিল, ১২ টি প্রধান বৈশিষ্ট্য, ১১ টি অধ্যায় এবং ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ রয়েছে।

🔘 সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন এবং আইন প্রনয়ণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে। সংবিধানের ব্যাখ্যাকারক- দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট।

▪️▪️▪️▪🅰️▪️▪️▪️▪️
জাকির বিসিএস স্পেশাল আলিজা আফরোজ